ফরেক্স মার্কেট পূর্বাভাস

Friday, March 17, 2017

ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে ফরেক্স



ইসলামের দৃষ্টিতে সুদকে হারাম আর ব্যবসাকে হালাল করা হযেছে। ফরেক্স মুলত বৈদেশিক মুদ্রার একটা ব্যবসা। কিন্তু এখানে একটা সমস্যা হল যে, প্রায় সব ব্রোকার হাউজেই মুলধন ও লিভারেজের টাকার উপর সুদ আদান-প্রাদান হয়ে থাকে। তাই ও এটা হারাম। কিন্তু কিছু কিছু ব্রোকার হাউজে আলাদাভাবেই ট্রেডারদের জন্য সুদমুক্ত আকাউন্টের ব্যবস্থা আছে। এই ধরনের অ্যাকাউন্টের আরেকটি নাম হল "ইসলামিক অ্যাকাউন্ট"। আপনি যদি সুদমুক্ত আকাউন্ট করেন তাহলে সাধারন অ্যাকাউন্টের অন্যান্য ট্রেডিং শর্তগুলোর কোন পরিবর্তন হবে না। একজন ট্রেডার, ফরেক্স বাজারে মুদ্রাজোড়ায় সুদমুক্ত আকাউন্টে তার বিচার-বুদ্ধি খাটিয়ে, ট্রেডিং করে অর্থ লাভ অথবা লোকসান করে তখন এটাকে হালাল ব্যবসা হয়।

ট্রেডিং গবেষনা ও ইসলামীক দৃষ্টিকোন থেকে যৌক্তিক ব্যাখা দেখুন

ইসলামিক নীতিঃ দুই পক্ষ (ক্রেতা/বিক্রেতা) বিদ্যমান থাকা।
ফরেক্স মার্কেটঃ দুই পক্ষ বিদ্যমান অর্থাৎ ব্রোকার/লিকিউডিটি প্রোভাইডার ও ট্রেডার।

ইসলামিক নীতিঃ বিক্রয় যোগ্য বস্তু হওয়া এবং বস্তুর অস্তিত্য বিদ্যমান থাকা।
ফরেক্স মার্কেটঃ বিক্রয় যোগ্য বস্তু যেমন, মূদ্রা, খনিজ পদার্থ, UK share, US share ইত্যাদি।

ইসলামিক নীতিঃ বস্তুর মূল্য নির্ধারন হওয়া।
ফরেক্স মার্কেটঃ প্রতিটি মূদ্রা বা শেয়ার ভ্যেলুর জন্যে মূল্য নির্ধারিত, যা Exchange rate বা বিনিময় মূল্য হিসেবে পরিচিত।

ইসলামিক নীতিঃ বিক্রিত বস্তুর উপর ক্রেতার মালিকানা এবং মূল্যের উপর বিক্রেতার মালিকানা অর্জন হওয়া। 
ফরেক্স মার্কেটঃ ব্রোকার এবং ট্রেডার উভয়ে প্রতিনিয়তই বাই-সেলিং এর ভিত্তিতে অর্থ আদান প্রদান করছেন, কখনো অর্থ যোগ হচ্ছে আবার কখনই বা বিয়োগ হচ্ছে।
ইসলামিক নীতিঃ লেন-দেন দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া।
ফরেক্স মার্কেটঃ এটি সর্ম্পূন্য স্পট ট্রেডিং মার্কেট, যেখানে প্রতিটি লেনদেন (ট্রেড) এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে নিষ্পত্তি হয়। 

ইসলামিক নীতিঃ লেন-দেন সম্পূর্ন সূদ মুক্ত হওয়া।
ফরেক্স মার্কেটঃ সুদ মুক্ত লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। 
 
ইসলামিক নীতিঃ সমজাতিয় বস্তু কম-বেশিতে বিক্রয় না হওয়া।
ফরেক্স মার্কেটঃ প্রতিটি দেশের মূদ্রা বিপরিত দেশের মূদ্রার সাথে বিনিময় হয়ে থাকে সমজাতিয় কোন মূদ্রা বাই সেলিং হয়না কারন এটি Exchange market.

ইসলামিক নীতিঃ প্রতারনার ঝুঁকি না থাকা।
ফরেক্স মার্কেটঃ সম্পূর্ন সিন্ডিকেট মুক্ত ও একেবারেই সচ্ছ যা পরিচালিত হয় গ্লোবাল সেন্ট্রাল ব্যাংক দ্বারা।

ইসলামিক নীতিঃ লাভ/লস বিদ্যমান থাকা।
ফরেক্স মার্কেটঃ দুটিই বিদ্যমান।


 

Monday, January 2, 2017

ফরেক্স ট্রেডিং এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

প্রায় ২০০ খ্রিস্টাব্দের কথা ঈসা (আঃ) এর আগমনের দুই শতাব্দী পরেও যখন ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাল্মুদ সংকলনের কাজ চলছিল, তখন কার কথা। ইহুদীদের ৭টি পবিত্র দিন ফিস্টের সময় গুলোতে ইসরাইলের জেরুজালেমের টেম্পলস কোর্ট অফ দ্যা জেন্টাইলসের কাছে কিছু লোককে বসে থাকতে দেখা যেত। কিছু কমিশনের বিনিময়ে এই লোকগুলো উৎসবে আগত মানুষদেরকে মুদ্রা পরিবর্তন করে দিত। ইতিহাস বলছে, মুদ্রা পরিবর্তন থেকেও যে লাভ করা যায়, এমন ধারনার সূচনা এখান থেকেই সর্বপ্রথম এসেছে। চতুর্থ খ্রিষ্টাব্দেতো পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের সরকার কারেন্সি এক্সচেঞ্জ এর জন্য একটি প্রতিষ্ঠানই চালু করেছিল। শুধুমাত্র ওই প্রতিষ্ঠানটিই মুদ্রা পরিবর্তন করতে পারত বলে তা সরকারের মনোপলি ব্যবসায় পরিণত হয়েছিল। 

"এত এত বছর আগে মানুষের কি দরকার পড়ত মুদ্রা পরিবর্তনের? আর তখনকার দিনে মুদ্রা পরিবর্তনের রেটই বা কিভাবে নির্ধারিত হত?"

তখন কার মানুষও কিন্তু ব্যবসার প্রয়োজনে একদেশ থেকে অন্য দেশে যেত। স্বভাবতই, একদেশের মুদ্রা অন্যদেশে আর কাজ করতনা। তাই, দেশত্যাগের পূর্বে মানুষ স্বর্ণ বা রুপা কিনে নিয়ে তা অন্য দেশে বিক্রি করে ওই দেশের কারেন্সি কিনে নিত। আর এই বিড়ম্বনা দূর করার জন্যই কমিশনের বিনিময়ে কিছু লোক সরাসরি একদেশের মুদ্রাকে অপর দেশের মুদ্রায় পরিবর্তন করে দিত। আর দর নির্ধারিত স্বর্ণ বা রুপার বিনিময়ে কোন দেশের মুদ্রা কত খানি পাওয়া যায়,  তার ভিত্তিতে।  এরও ১০০০ হাজার বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত তেমন কোন বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেনি মুদ্রা পরিবর্তন বাজারে। এর জন্য দরকার ছিল একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নে পৃথিবীতে সবচেয়ে ভূমিকা রেখেছে ইতালিয়রা। ১৪শ শতাব্দীতে ইতালীর বিভিন্ন প্রভাবশালী ধনী পরিবার অনেক গুলো ব্যাংক ওপেন করে। এগুলোর মধ্যে ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় বোধহয় ১৩৯৭ সালে মিদিচি পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মিদিচি ব্যাংক, যা প্রায় ১০০ বছর টিকে থাকে। এই পরিবারটি কত ধনীছিল,  তা বোঝানোর জন্য একটি বাক্যই যথেষ্ট। একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে পুরো ইউরোপের সবচেয়ে সম্পদ শালী পরিবার ছিল মিদিচি পরিবার।

১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি বড় ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ইতালির তুস্কানীতে। মন্টে দেই পাস্কি দি সিয়েনা নামের এই ব্যাংকটি কিন্তু আজও টিকে আছে। শুধুতাই নয়,  এটি বর্তমানে ইতালির তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক এবং টিকে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ব্যাংক।